Powered by Blogger.

This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.

Monday, October 5, 2015

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি রাঙ্গামাটি

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি পার্বত্য জেলা চট্টগ্রামের  রাঙ্গামাটি । এখানে পাহাড়ের কোল ঘেঁসে ঘুমিয়ে থাকে শান্ত জলের হ্রদ। নদী বয়ে চলে তার আপন মনে। সীমানার ওপাড়ে নীল আকাশ যেন চুমু খায় নদী আর পাহাড়ের বুকে। এখানে চলে পাহাড় নদী আর হ্রদের এক অপূর্ব মিলনমেলা। নদীর বাঁকে বাঁকে বাতাস সুর তোলে আপন মনে। প্রকৃতির এই অপরুপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ নয়নে শুধু চেয়ে থাকতে হয় অসহায় মানুষ হয়ে। চারপাশ দেখে মনে হয় আঁকা কোন জল রঙের ছবি। এখানকার প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে অদেখা এক ভূবন যেখান আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নয়নাভিরাম দৃশ্যপট। এখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমন অন্যতম ও অসাধারণ। কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হয় সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ। মূলত পানি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এই বাঁধ নির্মিত হয়। অসংখ্য পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা আঁকাবাঁকা বিশাল কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহারের  অনুভূতি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এতে করে অনুভূত হবে রোমাঞ্চকর অনুভূতির । দেশীয় ইঞ্জিন নৌকা,লঞ্চ, স্পিডবোটে চড়ে দিনভর নৌবিহার করা যেতে পারে। মজার ব্যাপার হলো আপনি চাইলে এই হ্রদ ঘুরতে ঘুরতেই দেখে ফেলতে পারবেন রাঙ্গামাটির অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো। হ্রদটি ঘুরে দেখার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটি ভাল নৌযানের। রাঙ্গামাটি পর্যটন এলাকা থেকে সারাদিনের জন্য বোট ভাড়া করলে দু’হাজার থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত টাকা লাগবে। পর্যটন এলাকায় বোট ভাড়া একটু বেশি। রিজার্ভ বাজার থেকে বোট বা ট্রলার ভাড়া করলে একটু কম দামে পাওয়া যাবে। এক হাজার থেকে বারশ’র মধ্যে হয়ে যাবে। উপজাতির বসবাস: পাখির কুহুতান, সবুজের মাখামাখি আর অসংখ্য নৃগোষ্ঠী এই জনপদকে দিয়েছে ভিন্ন এক রূপ। এখানে প্রায় ১৪টির মতো উপজাতী বসবাস করে। চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, লুসাই, সুজ সাওতাল ও রাখাইন অন্যতম। নৃগোষ্ঠীর জীবন-যাপন ও সংগ্রাম আপনাকে যেমন মুগ্ধ করবে তেমনি মুগ্ধ করবে এর পর্যটন এলাকাগুলো। দর্শনীয় স্থান: রাঙ্গামাটিতে ভ্রমন করার জন্য রয়েছে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে কাপ্তাই লেক, পর্যটন মোটেল, ডিসি বাংলো, ঝুলন্ত ব্রিজ, পেদা টিংটিং, সুবলং ঝর্না, রাজবাড়ি, রাজবন বিহার, উপজাতীয় জাদুঘর, কাপ্তাই হাইড্রো ইলেক্ট্রিক প্রজেক্ট, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। রাঙ্গামাটির অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থান এটি। চমৎকার একটি জলপ্রপাত এই স্থানকে দিয়েছে ভিন্ন একটি চরিত্র। রাজবাড়ি: রাঙ্গামাটি শহরেই অবসথিত রাজবাড়ি। চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার মা রাণী আরতি রায় এ রাজবাড়িতে থাকতেন। চারদিকে হ্রদ বেষ্টিত এই রাজবাড়ি পুরনো হলেও দেখতে ও বেড়াতে ভীষন ভাল লাগে। রাজদরবার, কাচারি, সজ্জিত কামানসহ দেখার মতো অনেক কিছু আছে। রাজবাড়ীর নিরিবিলি পরিবেশ, সবুজ বাঁশের ঝাড়  আর পাখির কলকাকলি আপনাকে মুহুর্তের জন্য অঁচল করে দেবে। রাজবাড়ীর পাশেই উপজাতীয় নারীরা তাদের হাতে বুনা বস্ত্র সম্ভার নিয়ে বসে থাকে বিকিকিনির জন্য। এসব পণ্য আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারে। তবে আসল রাজবাড়ী এখনো পানির নীচে। রাজবন বিহার: রাজবাড়ির পাশেই আন্তর্জাতিক খ্যাত এই বৌদ্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। এখানে অবস্থান করেন বৌদ্ব আর্য পুরুষ শ্রাবক বুদ্ধু সর্বজন পূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাসহবির বনভান্তে। এই বৌদ্ব বিহারে প্রত্যেক বছর কঠিন চীবর দানোৎসব হয় এবং এখানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত থাকে রাজবন বিহার এলাকা। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েকটি বৌদ্ব মন্দির, বিশ্রামাগার, হাসপাতাল, সর্বজনীন উপামনা বিহার.বনভান্তে সাধনা কুঠির,বনভান্তে চংক্রমন ঘর ও তাবতিংস স্বর্গসহ অনেক কিছু রয়েছে দেখার মত। তবলছড়ি চাকমা বাজার: রাঙামাটি শহরে এটি হলো একটি প্রধান উপজাতীয় বাজার। সপ্তাহে বুধ এবং শনিবার এ বাজার বসে। উপজাতীয় কিশোর-কিশোরী, নারী এবং পুরুষরা এখানে আসে নানা ধরনের জিনিসপত্র কিনতে। খাওয়া দাওয়া: রাঙ্গামাটি এসে স্থানীয় আদিবাসীদের খাবার না খেলে পুরো ভ্রমনটাই অপূর্ণ থেকে যাবে আপনার। তাই ইচ্ছে করলে এবং যদি কপাল ভাল হয় তবে আপনিও স্বাদ নিতে পারেন আদিবাসীদের হরেক রকম খাবারের। এদের অনেকগুলো পদের মধ্যে কয়েকটি খাবারের পদ খুবই ভিন্ন  প্রকৃতির ও সুস্বাদু। আপনি যে কোন হেটেলেই এসব খাবার পাবেন না। তাই রাঙামাটি গেলে অবশ্যই আদিবাসিদের খাবার খাওয়ার জন্য বলব সবাইকে। পর্যটকদের জন্য খুবই দৃষ্টিকাড়া ও আকর্ষনীয় স্থান রাঙামাটি।পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ঝুলন্ত ব্রিজটি  পর্যটন এলাকাকে আরও বেশি সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দিত করেছে। সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে এই আকর্ষণীয় স্থানটি। পর্যটকদের আকর্ষণের কারনে এবং এর নির্মানশৈলির কারনে ঝুলন্ত ব্রিজ আজ রাঙ্গামাটির নিদর্শন হয়ে দাড়িয়ে আছে।

ঈদের ছুটিতে মন রাঙাবে রাঙামটি, আর তাই এবার রাঙামাটি ভ্রমণের কিছু টিপস !

অপরূপ দৃশ্যে মন রাঙ্গাতে এবারের ঈদে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি থেকে। আপনার ঈদ হয়ে উঠবে আনন্দময়ী। একবার ঘুরে আসলেই যাত্রাপথ, কাপ্তাই, রাঙামাটি, রাজবন বিহার, জাফলং ঝরনা, কালিট্যাং-এর ছবি আঁকা হয়ে যাবে আপনার মানসপটে। বার বার স্মৃতি হয়ে খেলা করবে হৃদয় মাঝে।

কিভাবে যাবেন:

রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বেশ কয়েকটি গাড়ি প্রতিদিন রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চট্টগ্রামের বিআরটিসি, অক্সিজেন মোড় ও বিভিন্ন বাসস্টেশন থেকেও রাঙামাটির গাড়ি পাওয়া যায়। এছাড়া প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি। সেক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন অভিজ্ঞ চালক।

হোটেল ও গেস্ট হাউজ:

রাঙামাটিতে রাত যাপনের জন্য সরকারি-বেসরকারি অনেকগুলো হোটেল ও গেস্ট হাউজ রয়েছে; রয়েছে বোডিংও। বোডিংয়ের খরচ কম হলেও খুব ভালো ব্যবস্থা নেই।

কয়েকটি হোটেলের বর্ণনা:

(১) পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স: ১২টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষসহ বেশ কয়েকটি সিঙ্গেল ও ডাবল রুম রয়েছে এই হোটেলে।

(২) হোটেল সুফিয়া: এতে রয়েছে ২৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া ছোট-বড় সাধারণ কক্ষ রয়েছে আরও ৩৫টি।

(৩) হোটেল নিডস হিল ভিউ: ১৫টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ১০টি সাদারণ রুম রয়েছে এতে।

(৩) হোটেল গ্রীন ক্যাসেল: এই হোটেলে রয়েছে ৭টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম। এছাড়া সিঙ্গেল ও ডাবল রুমতো রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি, হোটেল সাফিয়া, হোটেল ড্রিমল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি মধ্যম মানের হোটেল।

এর সবকটি হোটেল-ই রাঙামাটি জেলা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত। তাই এখানে অবস্থান করেই খুব সহজেই ঘুরে বেড়াতে পারেন জেলার সবকটি দর্শনীয় স্থানে। 

Sunday, October 4, 2015

বাংলাদেশে 9 টি অসম্ভব সুন্দর জায়গা! আপনার বিশ্বাস হবেনা এগুলো স্থান বাংলাদেশে আছে!


1. নেত্রকোনার বিড়িসিড়ি

the ciramic valley!Photo by Tahsin Hossain

2.নেত্রকোনার বিড়িসিড়ির আরেকটি ভিউ

Birishiri
Photo by Iftekhar Alam Himel

3. সোমেশ্বরী নদী, নেত্রকনা

Shomeshwari RiverPhoto by Farhana Jabin

4.সোমেশ্বরী নদী, নেত্রকনা। আরেকটি দৃশ্য

Shomashori river, Netrokona, Bangladesh
Photo by Hasib Wahab

5. সোনাদিয়া, কক্সবাজার

Sonadia, Cox's BazarPhoto by Chobir Kabbo  

6.সোনাদিয়ার পাইন বন

Pine Forest - Sonadia IslandPhoto by Sinbad Konick

7.সোনাদিয়াতে ক্যাম্পিং

1sonadia islandPhoto by masud ananda  


Photo by: shawccha saha

8. তিস্তা, রংপুর


Photo by: shawccha saha

9.রংপুরের তিস্তার আরেকটি দৃশ্য


ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন। আমাদের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলাদেশে 20 অসম্ভব সুন্দর জায়গা! আপনার বিশ্বাস হবেনা এরকম সুন্দর স্থান বাংলাদেশেও আছে!

অনেকেই বলেন বাংলাদেশে কোন সুন্দর ঘোরার জায়গা নেই। কিন্তু এটা একটা সম্পূর্ন ভুল ধারনা। বাংলাদেশে এতো অসাধারন সব পর্যটন ক্ষেত্র রয়েছে যেগুলো না দেখলে বিশ্বাস হয়না। এখন আপনাদের দেখাবো এমন কিছু অসাধারন জায়গা। আপনারা অবসরে এগুলো থেকে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন।
এই ছবিগুলোর কোনটিই আমাদের নিজেদের তোলা নয়। প্রতিটি ছবির ফটোগ্রাফারের নাম আমরা ছবির নিচে ম্যানশন করে দিয়েছি। যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এসব ছবি আমাদের সামনে তুলে এনেছেন তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।

১. সাজেক ভ্যালি, রাঙ্গামাটি।

Sajek Valley...
?
Photo by Afzal Nazim Sajek Valley
Photo by Tarek Mahmud

রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালির পাহাড়ের উপরের দৃশ্য।

Beautiful BangladeshPhoto by Imran Bin Mazher I wanna climb the hills because I wanna vanish in clouds and their music
Photo by MD.ABDULLAH MAHMUD

২. কাপ্তাই লেক, রাঙ্গামাটি।

Kaptai lakePhoto by Sheikh Mehedi Morshed Taef  

২. শুকনাছড়া ফলস, রাঙ্গামাটি।

The Shuknachara Falls
Photo by Mohammad Saiful Islam

৪. রাইখং লেক, পুকুয়ারপাড়া, রাঙ্গামাটি

Raikhong LakePhoto by TuheenBD  

রাইখং ফলস, পুকুয়ারপাড়া, রাঙ্গামাটি

Waterfalls
Photo by TuheenBD

৫. নীলগিরি রিসোর্ট, বান্দরবান

Nilgiri Resort @ BandarbanPhoto by alauddin2008  

নীলগিরি বান্দরবান থেকে সূর্যাস্ত

sunrise at Nilgiri, Bandarban Photo by Ishtiaque Ovee  

৬. সাঙ্গু নদী, বান্দরবান

Shangu, Bandarban
Photo by Exploring Bangladesh

৭. কিউক্রাডং এর চূড়া থেকে

Goodmorning Keokaradang Photo by Faisal Akram  

৮. বান্দরবানের বগা লেকের কাছ থেকে মিষ্টি পাহাড়

Morning at Bandarban 2Photo by D.M. Hasan-Uz- Zaman  

৯. বান্দরবানের বগা লেক

Boga Lake
Photo by Anwar Hussain

১০. বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়

Bandarban Chimbuk Range Hill View From Nilgiri Photo by Sharif Ripon  

১১. জাদিপাই পাড়া, বান্দরবান

Jadipai Para
Photo by Shahadat Rahman Shemul

১২. জাদিপাই ফল, বান্দরবান

Jadipai Fall, Bandorban, Bangladesh Photo by Roy Udoy  

১৩। নাফাখুম ফল, বান্দরবান

Nafakhum, BandarbanPhoto by Razequl Zibon  

১৪. থানছি, বান্দরবান

Pan Thanchi 1
Photo by Sabbir Khan email: [email protected]//

১৫. আমিয়াখুম ফল, বান্দরবান

Amiakhum Waterfall Photo by Md Rasedul Hasan  

১৬. রিজুক ফল, বান্দরবান

Rijuk falls ((Bandarban).............
Photo by Khondoker Jannatul Ferdous

১৭. তাজিংডন, বান্দরবান

Tajingdong
Photo by Dr.Muntasir Moin

১৮. রাতারগুল জলাভূমির বন, সিলেট

Ratargul
Photo by Wild Priest

সিলেটের রাতারগুল জলাভূমির বনের আরেকটি দৃশ্য

04 Photo by Arefin Chisty  

সিলেটের রাতারগুল জলাভূমির বন

A Refreshing Moment at Ratargul Swamp Forest II
Photo by Abdullah Al Maymun Chowdhury

১৯. জাফলং, সিলেট

JaflongPhoto by Neerod  

২০. বিছনাকান্দি, সিলেট

Bichana Kandi _ sYlhet
Photo by nilesh rony

Thursday, October 1, 2015

সুন্দরবন ভ্রমনে যেতে চাইলে যে তথ্যগুলো জানা দরকার।

সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে বিখ্যাত । এটি বাংলাদেশের ৪টি জেলা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত । ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের প্রায় ৬,০০০ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশ অংশে। সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এবং ১৯৯২ সালে রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়।সুন্দরবনের বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ একই  ভূমিরূপের অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সূচিতে ভিন্ন ভিন্ন নামে লিপিবদ্ধ হয়েছে যথাক্রমে সুন্দরবন ও সুন্দরবন জাতীয় পার্ক নামে।

সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা আসেন মুলত পৃথিবী বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ,কুমির, বানর,সাপ এবং শতাধিক প্রজাতির পাখি দেখার আশায়। প্রকৃতির অপরূপ অনাবিল সৌন্দর্যমন্ডিত রহস্যঘেরা এ বনভূমি পর্যটকদের কাছে একারণেই বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমনস্থান।
ভ্রমণ মৌসুম: প্রায় সব মৌসুমেই সুন্দরবনে ভ্রমনপিপাসুদের আনাগোনা থাকলেও শীত মৌসুমে পর্যটকের ভিড় থাকে বেশী।কারণ এই সময় সুন্দরবনের ভিতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খাল গুলোতে পানি থাকে কম এবং বনভুমির লোনা পানিতে নিমজ্জিত অংশ গুলো শুকিয়ে আসে।যার ফলে বনের মধ্যে ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যায় বেশি।আবার কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে রাঁসমেলা নামে পাঁচ দিনের একটি মেলাও বসে দুবলার চরে।এ সময়ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর থাকে সুন্দরবন।
ভ্রমণকালে যা সঙ্গে রাখতে হবে :

ü  আপনার ব্যাগের ভেতরে একটা কাগজে নাম, ঠিকানা ও টেলিফোন নাম্বার লিখে রাখুন।
ü  আপনি কোন কোন জায়গায় যাচ্ছেন তার বিবরণ (Itinerary) সাথে গাইডের কন্টাক্ট নাম্বার, গ্রুপের সাথে গেলে গ্রুপ লিডারের নাম এবং কন্টাক্ট নাম্বার এসব লিখে রেখে যাবেন।
ü  সুন্দরবনে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের সমস্যা আছে, সুতরাং সেভাবে বাসায় বলে যাবেন।
ü  আপনি যদি কোন ঔষধ নিয়মিত সেবন করেন সেই ঔষধ যতদিন বাইরে থাকবেন তারচাইতে অন্ততঃ দিন দুয়েকের বেশী পরিমান সাথে রাখবেন। সহযাত্রী কাউকে এই ঔষধের ব্যাপারটা জানিয়ে রাখবেন।
ü  জরুরী চিকিৎসা সরঞ্জামাদী যেমন ডেটল, তুলা, ওরস্যালাইন ইত্যাদি।
ü  চশমা ব্যবহার করলে সাথে অতিরিক্ত একটি নেবেন, সানগ্লাস রাখতে পারেন।
ü  যত কম সম্ভব কাপড় চোপড় সাথে নেবেন, উজ্জ্বল রঙ এর কাপড় নেবেননা। টাওয়েল না নিয়ে গামছা রাখতে পারেন, হ্যাট নিতে পারেন।
ü  পানিতে ধোয়া যায় তেমন বুট, এক জোড়া চপ্পল, সানস্ক্রীন লোশন।
ü  ক্যামেরা, মেমরী কার্ড, টর্চলাইট, পাওয়ার ব্যাংক, মাল্টিপ্লাগিং সিস্টেম, দূরবীন।
ü  বাক্স টাইপের ব্যাগ পরিহার করে ঝোলানো যায় তেমন কাপড়ের ব্যাগ।
ü  শীতবস্ত্রের সঙ্গে একটি করে কম্বল

কিভাবে যাবেন :
সুন্দরবন যেতে চাইলে আপনি ঢাকা থেকে সরাসরি চেয়ার কোচে মংলা বন্দরের পর্যটন ঘাটে পৌছাতে পারেন। সেখান থেকে চেয়ার কোচ অথবা ট্রেনে খুলনা গিয়ে কোন আবাসিক হোটেলে রাত যাপন করে পরের দিন খুলনা জেলখানাঘাট থেকে লঞ্চে সুন্দরবনে যেতে পারেন।
অথবা ঢাকা থেকে বাসে সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগর, সেখান থেকে মাইক্রোতে সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন, এখান থেকে অনুমতি সংগ্রহ করে সুন্দরবনে ঢোকা এবং অনেকগুলো পথের একটি বেছে নিয়ে হিরণপয়েন্ট ঘুরে আসা। ঢাকা থেকে বুড়িগোয়ালিনী আসতে যে পরিমান সময় লাগে আর যেভাবে গাড়ি পাল্টাতে হয় তাতে বেশীর ভাগ ট্যূর কোম্পানী এ রাস্তায় আসেনা।

যেভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হয় :
খুলনা কিংবা মংলা থেকে নৌ পথে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে প্রবেশ করা যায়। সুন্দরবন ভ্রমনের সবচাইতে জনপ্রিয় রুট হচ্ছে খুলনার কাছে ডিঙ্গামারী ফরেস্ট অফিস থেকে অনুমতি সংগ্রহ করে কটকা, কচুখালী এসব এলাকা ঘুরে বেড়ানো। কটকা কিংবা কচুখালী দুটো জায়গাই সুন্দর। দেশের বড় ট্যূর অপারেটর গুলো সাধারণত এপথই অনুসরণ করে, এর মূল কারন নদীর নাব্যতা।
বনভূমি ঘুরিয়ে দেখানোর জন্য গাইড নেয়াসহ সেখান থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের আনুষাঙ্গিকতা সারতে হয়বন বিভাগের কার্যালয় থেকে । সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য ট্রলার বা লঞ্চ ভাড়া করলে তার জন্য আলাদা ফি পরিশোধ করতে হয়।এছাড়াও পর্যটকদের তার সাথে সাথে ভিডিও ক্যামেরা নিতে চাইলে অতিরিক্ত একশ টাকা বন বিভাগকে দিতে হয়।
যা যা দেখবেন :
বনে ঢুকলেই দেখবেন সারি সারি সুন্দরী, পশুর, কেওড়া, গেওয়া এবং গোলপাতা গাছ। দৃষ্টি যতদূর যায় সব খানেই যেন কোন শিল্পী সবুজ অরণ্য তৈরি করে রেখেছেন।অপরূপ চিত্রা হরিণের দল, বন মোরগের ডাক, বানরের চেঁচামেচি, মৌমাছির গুঞ্জন ও বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। সুন্দরবন বিশ্বখ্যাতি অর্জন করেছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও চিত্রা হরিণের জন্য। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বানর, কুমির, হাঙ্গর, ডলফিন, অজগর ও বন মোরগ ছাড়াও রয়েছে ৩৩০ প্রজাতির গাছ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির বন্য প্রাণী ও ৩২ প্রজাতির চিংড়িসহ ২১০ প্রজাতির মাছ।এছাড়াও দেখবেন বাওয়ালীদের গোলপাতা সংগ্রহ আর মৌয়ালীদের মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের দৃশ্য। সুন্দরবনের এসব নয়নাভিরাম দৃশ্য ও বন্য প্রাণী দেখতে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা প্রতিনিয়ত সেখানে ছুটে যাচ্ছেন।
সুন্দরবনে গেলে অবশ্য করণীয়:
সুন্দরবনের কিছু মনোমুগ্ধকর স্থান রয়েছে যেখানে না গেলে আপনার সুন্দরবন যাওয়া সfর্থক হবে না। এরমধ্যে
·         হিরণ পয়েন্ট
·         দুবলার চর
·         শরণখোলা
·         ছালকাটা
·         টাইগার পয়েন্ট টাওয়ার
·         টাইগার পয়েন্ট সি বিচ
·         জামতলা সি বিচ
·         সাত নদীর মুখ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
সুন্দরবন ভ্রমণে বন্যপ্রানীর দেখা পাওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে ভ্রমন শুরুর আগেই  কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে এখানে অনেক প্রানীর দেখা পাওয়া সম্ভব।যেমন,
Ø  পাশাপাশি না হেঁটে এক লাইনে চলুন। একা হাঁটবেননা।
Ø  বনে হাটাঁর সময় অহেতুক উচ্চস্বরে কথা না বলে নিরবতা পালন করা
Ø  বনে হাঁটার সুবিধার জন্য কাঁধ সমান উঁচু লাঠি ব্যবহার করুন।
Ø  কেউ কোনো বন্যপ্রানী দেখলে চিৎকার না করে অন্যকে ইশারায় জানানো
Ø  নিজনিজ পানির বোতল সাথে নেয়া
Ø  অজানা গাছের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন, পাতা বা কষ যাতে গায়ে না লাগে খেয়াল রাখুন।
Ø  গাইডের নির্দেশনা মানা
প্রসিদ্ধ খাবার :সুন্দরবনে যেসব পর্যটকেরা আসেন তারা অধিকাংশই এখান প্রসিদ্ধ জিনিসগুলো সাথে করে নিতে চান। এখানকার প্রসিদ্ধ জিনিষের মধ্যে রয়েছে মৌচাকের খাঁটি মধু, নদীর বিভিন্ন প্রজাতির টাটকা মাছ, বাগদা ও গলদা চিংড়ি, কাকড়া ও সামুদ্রিক শুটকি ।

রামসাগর না গেলে দিনাজপুর ভ্রমনের আনন্দটাই মাটি

রামসাগর কোন সাগর নয় তারপরেও তার নাম রামসাগর। সৌন্দর্য্য এবং আয়তনের দিক থেকে রামসাগর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দীঘি। এ দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট জাতীয় ‍উদ্যান। রামসাগর ও জাতীয় এই উদ্যানকে ঘিরে প্রতিদিন সারা দেশ থেকে ভ্রমন পিঁপাসু হাজার হাজার পর্যটক ভিড় জমায়। বন্ধুরা তোমরা যারা দিনাজপুর ভ্রমন করতে যাবে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, দিনাজপুর গেলে কিন্তু রামসাগর দেখতে যাওয়া চাই-ই-চাই। কারণ রামসাগর না গেলে দিনাজপুর ভ্রমনের আনন্দটাই মাটি। চলো তাহলে ঘুরে আসি দিনাজপুর জেলার রামসাগর দীঘি থেকে।

দিনাজপুর  সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর শহর থেকে ৫ মাইল দক্ষিণে এই দিঘিটির অবস্থান। শুধুমাত্র জলাধার বা ‌ঐতিহাসিক কীর্তি নয়, এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অধিকারী একটি মনোরম পার্ক রয়েছে এখানে। পলাশী যুদ্ধের প্রাক্কালে দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ ১৭৫০-১৭৫৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে রামসাগর দীঘিটি খনন করান এবং তার নামেই এর নামকরণ করা হয়।

কি দেখবেন রামসাগর গিয়েঃ
এ চারপাশে সবুজ বৃক্ষরাজি ঘেরা রামসাগরকে দূর থেকে অরণ্য ভেবে ভুল করতে পারেন অনেকে। ইট বিছানো উঁচু রাস্তাটিতে উঠে বাঁ দিকে চোখ ফেরাতেই বিস্তীর্ণ জলরাশি চোখের সামনে মূর্ত হয়। অবাক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতে হয় সাগরের মতো বিশাল দিঘিটির দিকে। স্থির, স্বচ্ছ রূপ নিয়ে মনোহরণ করতে থাকে। মূল দিঘির চারপাশে উঁচু টিলা। টিলাজুড়ে নানা জাতের গাছগাছালি। গাছগুলোতে জমে পাখির আড্ডা। তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে চারপাশ। রয়েছে (রামসাগর জাতীয় পার্ক) চারিদিক প্রদক্ষিণ করার রাস্তা। নানা ধরনের পুরানো এবং নতুন গাছের সমাহারে সাজানো রয়েছে চারিদিক। রয়েছে পরবর্তীতে কৃত্রিমভাবে বানানো নানা ধরনের পশু পাখির প্রকৃতি। এছাড়া কিছু হরিণও আপনার চোখে পড়বে ।এছাড়ও দিঘিতে ভেসে থাকা অজস্র শাপলা ফুল রামসাগরের সৌন্দর্য্যেকে দিয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া যা সহজেই আপনার মন কাড়তে সক্ষম হবে।

দিঘির উত্তর দিকে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত লাল ইটের একটি প্রাচীন স্থাপনা দেখা যায়। এটি নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে স্থানীয়দের কাছে। কারও মতে এটি একটি মন্দির আবার কারও মতে এটি একটি বিশ্রামাগার।

রামসাগর নামটি কিভাবে আসলো?
কথিত আছে, বহু বছর আগে রাজা রামনাথ রাজ্যের মানুষের পানির অভাব মেটানোর জন্য একটি দীঘি  খনন করা শুরু করেন। কিন্তু যতই খনন করা হোক না কেন, দীঘি দিয়ে পানি উঠে না। কেউ কোনো কারণ বুঝতে পারছিল না। হঠাৎ একদিন রাজা স্বপ্ন দেখেন, দীঘির মাঝে একটি ছোট মন্দির স্থাপন করে রাজা পূজা করলে দীঘিতে পানি উঠবে। স্বপ্নমতে রাজা রামনাথ মন্দির স্থাপন করে পূজা করলে দীঘিতে পানি উঠে এবং রাজা রাম পানিতে ডুবে মারা যান। পরে তার স্মৃতিস্বরূপ এই স্থানের নাম হয়েছে ‘রামসাগর’।

রামসাগর ভ্রমনের প্রয়োজনীয় তথ্য
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে রামসাগর জাতীয় উদ্যান । এখানে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ২ টাকা। নির্দিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে গাড়ি নিয়েও জায়গাটিতে প্রবেশ করা যায়। রামসাগরে  বাহনের প্রবেশ মূল্য রিকশা ৫ টাকা, কার বা জিপ ৩৫ টাকা, সাধারণ মাইক্রোবাস ৬০ টাকা, বড় মাইক্রোবাস ৭৫ টাকা। নিজস্ব বাহন না থাকলে দিনাজপুর শহর থেকে ব্যাটারি চালিত রিকশায় রামসাগর আসতে সময় লাগে প্রায় ত্রিশ মিনিট। ভাড়া ১০০-১৫০ টাকা।

কীভাবে যাবেন,কেমন খরচ?
ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেন দুই পথেই যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী (Dinajpur) বাসগুলো সাধারণত ছাড়ে গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে। এ পথে নাবিল পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। ভাড়া ৯০০ টাকা।
এ ছাড়া হানিফ এন্টারপ্রাইজ,এস আর ট্রাভেলস,কেয়া পরিবহন, এস এ পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, নাবিল পরিবহনের নন-এসি বাসও চলাচল করে এ পথে। ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকা।
 ঢাকা থেকে আসাদগেট, কলেজগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড় অথবা গাবতলী হতে নাবিল, বা বাবলু এন্টারপ্রাইজের চেয়ার কোচে করে সরাসরি দিনাজপুর । প্রায় সারাদিন ৩০ মিনিট বা ১ ঘণ্টা পরপর গাড়িগুলো ছেড়ে যায়। তা ছাড়া উত্তরা হতেও কিছু পরিবহন দিনাজপুর যায়।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন দ্রুতযান এক্সপ্রেস ছাড়ে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে। আর আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস ছাড়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে। ঢাকা থেকে একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে যথাক্রমে মঙ্গল ও বুধবার। ভাড়া শোভন সিট ১৮৫ টাকা,শোভন চেয়ার ২৫০, প্রথম শ্রেণি চেয়ার ৩৫০, প্রথম শ্রেণি বার্থ ৫৩৫, এসি চেয়ার ৬১৮, এসি বার্থ ৮৯৭ টাকা।

দিনাজপুর (Dinajpur) থেকে ঢাকার উদ্দেশে দ্রুতযান এক্সপ্রেস ছাড়ে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে আর একতা এক্সপ্রেস ছাড়ে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। দিনাজপুর (Dinajpur) থেকে একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস বন্ধ থাকে যথাক্রমে সোমবার ও বুধবার।

কোথায় থাকবেন, কেমন খরচ?
 রামসাগরের ভেতরের এক অংশে রয়েছে বন বিভাগের একতলাবিশিষ্ট একটি বাংলো। সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এখানে থাকতে পারেন। এখানে থাকতে হলে স্থানীয় বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হয়। একতলা ভবনটিতে তিনটি সাধারণ এবং একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে। প্রতিটি সাধারণ কক্ষের ভাড়া প্রতি রাত ৫০০ টাকা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ভাড়া ১০০০ টাকা। নিজেদেরই খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়। এছাড়াও দিনাজপুর শহরে রয়েছে কয়েকটি উন্নতমানের আবাসিক হোটেল। অল্প খরচেই সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যায়।কাছ থেকে রাম সাগরের লোভনীয় সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য এটি একটি আদর্শ হোটেল।
  
এছাড়া দিনাজপুর শহরের কোন হোটেলে থাকতে পারেন। দিনাজপুর শহরে থাকার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন কপোর্রেশন এর মোটেলসহ অনেকগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন হোটেল রয়েছে। আপনি চাইতে এখানে থাকতে পারেন। হোটেল ডায়মন্ড, পূর্নভবা, হোটেল আল রশিদ উল্লেখযোগ্য।

হোটেল বুকিং সুবিধা

দিনাজপুর (Dinajpur) শহরে থাকার জন্য ভালো মানের হোটেল হচ্ছে পর্যটন মোটেল (০৫৩১-৬৪৭১৮)। এ ছাড়া ঢাকায় পর্যটনের প্রধান কার্যালয় থেকেও এ মোটেলের বুকিং দিতে পারেন।
ফোন :৯৮৯৯২৮৮-৯১ ।

দিনাজপুরের (Dinajpur) পর্যটন মোটেলে এসি টুইনবেড ১৫০০ টাকা এবং এসি টুইনবেড ডিলাক্স কক্ষ ১৮০০ টাকা। এ ছাড়া দিনাজপুরের (Dinajpur) অন্যান্য সাধারণ মানের হোটেলে ১০০-১২০০ টাকায় রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে।

কয়েকটি সাধারণ মানের হোটেল হলো—মালদহ পট্টিতে হোটেল ডায়মন্ড (০৫৩১-৬৪৬২৯),নিমতলায় হোটেল আল রশিদ (০৫৩১-৬৪২৫১), হোটেল নবীন (০৫৩১-৬৪১৭৮), হোটেল রেহানা (০৫৩১-৬৪৪১৪), নিউ হোটেল (০৫৩১-৬৮১২২)।

বিশেষ খাবার গুলোঃ

দিনাজপুর (Dinajpur) এর বিখ্যাত এবং খুব জনপ্রিয় খাবার  লিচু,চিড়া,পাপড় খেতে ভুলবেন না।

বন্ধুরা বিস্তারিত জানিয়ে দিলাম দিনাজপুরের রামসাগর সম্পর্কে। এবার তাহলে ভ্রমনের সরঞ্জামাদি নিয়ে বেরিয়ে পড়। সাথে আমাকে নিতে কিন্তু ভুল করনা। না না আমাকে না তোমার ক্যামেরাটাকে। তোমাদের ভ্রমন নিরাপদ হোক। শুভকামনা রইল...

বৈকাল হ্রদ : প্রকৃতির এক বিস্ময় !



প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিস্ময়কর নিদর্শন হ্রদ বা লেক। লেক ডোবা, পরিখা, জলাশয় ইত্যাদি। কিন্তু ‘লেক’-এর বাস্তব পরিচয় এর চেয়েও বেশি কিছু। লেক, পুকুর, ডোবা ইত্যাদির মতো ছোট জলাশয় নয়; অনেক ক্ষেত্রে তা নদীর চেয়েও বিশাল। তবে হ্রদ বা লেকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা নদীর মতো প্রবাহিত হয়ে অন্য নদী বা সাগরের সাথে মেশে না। লেক হলো আবদ্ধ জলাশয়। কোনো কোনো লেকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা এতো বেশি যে তা দেখে রীতিমতো ভিমরি খাওয়ার অবস্থা হয়। অনেক হ্রদ আবার আয়তন ও গভীরতায় ছোট। কিছু হ্রদ মানুষের তৈরি। মানুষ নানা প্রয়োজনে মাটি কেটে নেয়ার ফলে সৃষ্ট জলাশয় এগুলো। আবার কিছু জলাশয় প্রাকৃতিক ভূগর্ভে প্রচণ্ড কম্পন বা আলোড়নের ফলে যে বিশাল বিশাল ফাটল সৃষ্টি হয় তা থেকে এগুলোর উত্পত্তি। আমাদের বাংলাদেশেও ছোট-বড় বেশ কিছু হ্রদ বা লেক রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশই মানুষের সৃষ্টি। বাংলাদেশের লেকগুলোর মধ্যে আছে বান্দরবানের বগা লেক, চট্টগ্রামের ফয়স’ লেক, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক, মৌলভীবাজারের মাধবপুর লেক, নেত্রকোনার চুনাপাথর লেক এবং ঢাকার রমনা লেক, সংসদ ভবন লেক, ধানমন্ডি লেক ইত্যাদি। লেকগুলোর অপরূপ সৌন্দর্য মানুষের মন কাড়ে। তাইতো মানুষ দলে দলে ছুটে যায় সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে এগুলো দর্শনার্থী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম থাকে সারাবছর।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক হ্রদ বা লেক রয়েছে। আজ আমরা রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ সম্পর্কে কিছু জানবো। বৈকাল হ্রদ রাশিয়ার সর্ব-উত্তরের অঞ্চল সাইবেরিয়ার দক্ষিণে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন হ্রদ। এটির চারদিক পাহাড় ঘেরা। ধারণা করা হয়, ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন বছর আগে ‘বৈকাল ফাটল এলাকা’র ভূগর্ভে তীব্র আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে একপ্রকার ফাটলের সৃষ্টি হয়; আর তারই ফলে এই বিশাল জলাশয়— বৈকাল হ্রদের সৃষ্টি। আয়তনের মতো গভীরতার বিচারেও এটি পৃথিবীর সর্ববৃহত্ হ্রদ। ৫ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার বা ২ লাখ ১৬ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। এই হ্রদ লম্বায় ৬৩৬ কিলোমিটার বা ৩৯৫ মাইল; চওড়ায় সর্বোচ্চ ৭৯ কিলোমিটার বা ৪৯ মাইল। এর গড় গভীরতা ৭৪৪.৪ মিটার বা ২ হাজার ৪৪২ ফুট; আর সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৪৪২ মিটার বা ৫ হাজার ৩৮৭ ফুট। সৈকত বা বেলাভূমির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার (১ হাজার ৩০০ মাইল)। বৈকাল হ্রদ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ১৮৬.৫ মিটার বা ৩ হাজার ৮৯৩ ফুট নিচে। এই হ্রদে রয়েছে ছোট-বড় ২৭টি দ্বীপ। সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম ওলখন, যা লম্বায় ৭২ কিলোমিটার। বৈকাল হ্রদ পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহত্ স্বচ্ছ পানির হ্রদ। বিশালতার কারণে প্রাচীন চীনা পাণ্ডুলিপিতে এই হ্রদকে ‘উত্তর সাগর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বহুকাল ধরে ইউরোপের মানুষ সাগরসদৃশ এই হ্রদের খবর জানতো না। রাশিয়া এই অঞ্চলে তাদের রাজ্য সম্প্রসারিত করলে সর্বপ্রথম কুরবাত ইভনিভ নামক এক রুশ অনুসন্ধানী গবেষক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে এই এলাকায় পৌঁছেন। তার মাধ্যমে প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময় ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি বৈকাল হ্রদ এবং তার পাড় জীব-বৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। হ্রদের পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ১ হাজার ৭০০’রও বেশি জাতের গাছপালা ও জীবজন্তু রয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। এখানে রয়েছে ওমূল, গোলেমিংকা, স্যামন প্রভৃতি মাছ এবং নানাজাতের শামুক, শ্যাওলা ইত্যাদি। এর পূর্ব পাড়ে বাস করে বুরিয়াত নামক আদিবাসী সম্প্রদায়। বৈকাল শীতপ্রধান এলাকা। শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা শূন্যের নিচে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আর গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতকালে হ্রদের পানি বরফ হয়ে পুরো আস্তরণ তৈরি হয়; তখন তার ওপর দিয়ে দিব্যি হেঁটে যাওয়া যায়। প্রকৃতির বিস্ময় বৈকাল হ্রদে সারা পৃথিবীর অনুসন্ধানী গবেষক আর সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে সারাবছর।

ভারতের জানা অজানা দর্শনীয় কয়েকটি স্থান

আমাদের প্রতিবেশীদেশ ভারতে রয়েছে অসম্ভব সুন্দর কিছু স্থান যা সারা বিশ্বের ভ্রমন পিপাসুদের নজর কাড়ে।  ভারতের শিমলা, দার্জিলিং ধরণের চেনাজানা স্থানগুলোর সাথে আজকে পরিচয় করিয়ে দেব না। পরিচয় করিয়ে দেব একটু লুকোনো, একটু অজানা অতুলনীয় সুন্দর কিছু স্থানগুলোর সাথে। একটু সময় বের করে নিয়ে উপভোগ করে আসতে পারেন ভারতের কয়েকটি অপূর্ব সুন্দর স্থানে।

 জিরো ভ্যালী

অসাধারণ সবুজে ঢাকা পাহাড় এবং উপত্যকা দেখতে ঘুরে আসুন অরুণাচল প্রদেশের জিরো ভ্যালী। শান্ত পরিবেশে ঘুরে আসার মত অসম্ভব সুন্দর একটি জায়গা এটি।






গোমুখ

ভাগীরথী নদীর কাছে, গাঙ্গোত্রীর অতুলনীয় সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং পাহাড়ের ওপর ক্যাম্পিং করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ভারতের গোমুখের পাহাড় ও উপত্যকা থেকে।






কাসাউলি

বরফে ঢাকা স্থানে একটু উষ্ণতা খুঁজে পেতে সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ভারতের হিমাচলের কাসাউলির নদী এবং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে থাকা অসাধারণ পরিবেশে।






তাওয়াং মনাস্ট্রি

মানসিক শান্তি খুঁজলে চলে যেতে পারেন অরুণাচল প্রদেশের অপর একটি স্থান তাওয়াং মনাস্ট্রিতে। শান্তিপূর্ণ অসাধারণ পরিবেশে হারিয়ে যেতে চাইলে আজই টকেট কেটে ফেলুন ভারতের।




যগ ফলস

অতুলনীয় সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝর্ণার সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ভারতের দ্বিতীয় উচ্চতম ঝর্ণা যগ ফলস থেকে। এর অবস্থান ভারতের সাগারাতালুকে।







হাম্পি

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের শোভা দেখতে চলে যেতে পারেন কর্নটাকের হাম্পির গ্রামগুলোতে।







বানারাস

ছবিটিতে একটু নজর বুলিয়ে নিলেই বুঝতে পারবেন কেনো ঘুরে আসতে বলা হচ্ছে এই সপুরব সুন্দর স্থানটি থেকে। উত্তর প্রদেশের এই অপূর্ব স্থানটি সত্যিই অনেক দর্শনীয়।

বন্ধুরা, তাহলে ঘুরে আসুন অপরূপ সৌন্দর্যের দেশ ভারত থেকে।

জলের উপরে ভেলায় ভেসে ভেসে শপিং করলাম থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটে

পৃথিবীর নানা প্রান্ত ঘুরে ঘুরে শপিং করতে খুব ভালবাসেন বুঝি! বিশ্বের সবক’টি বড় বড় শপিং ডেস্টিনেশনের হদিশ তাহলে নিশ্চয়ই আপনার নখদর্পণে। কখনও জলের উপরে ভেলায় ভেসে ভেসে শপিং করেছেন? তাইল্যান্ডের দামনিওন সাদুয়াক ফ্লোটিং মার্কেটে প্রতি বছরই হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হয়। ব্যাংককের দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১০০ কিমি দূরে রাতচাবুড়ি এলাকায় অবস্থিত এটি। 


ছোট ছোট বোটে রকমারি সবজি আর ফলের সমাহার! আর এর সঙ্গে মাথায় বাঁশের টুপি-পরা থাই মহিলা। এখানে এরকম দৃশ্য আকছার দেখবেন। ১৮৬৬ সালে রাতচাবুড়ি আর সামুতসাখোন রাজ্যের মধ্যে জলপথে যাতায়াত চালু করতেই দামনিওন সাদাউক খালটি কাটা হয়। স্থানীয় কৃষিকাজেও এই খালের জল খুব সাহায্য করে। মালাক্কা গ্রেপ, চাইনিজ় আঙুর, আম, কলা, নারকেল-সহ একাধিক ফল আর সবজি জন্মায় এখানে। আর নানা রকমের ফল, সবজি, মিষ্টি, মাংস ছোট ছোট বোটে ভরে ফেরি করে বেড়ান এখানকার বিক্রেতারা।ভেলায় ভেসে জিনিসপত্র কিনতে কিনতে দেখে নিতে পারেন ট্র্যাডিশনাল থাই বাড়িঘর। চেখে নিতে পারেন ওখানকার নিজস্ব খানাপিনা। 


দামনিওন সাদাউক থেকে আরও যে ছোট ছোট খাল বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত হয়েছে সেগুলির শোভাও কিছু কম নয়! এজন্য রয়েছে বোট ট্রিপ সার্ভিস। ব্যাংককের থোনবুড়ি অঞ্চলে ওয়াত্‌ সাই মার্কেটও পর্যটকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। আর বললে বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, এ দেশে যত বেড়াতে যাওয়ার জায়গা আছে, তার মধ্যে এই ভাসমান মার্কেট কিন্তু ‘মোস্ট ফটোগ্রাফড’ ডেস্টিনেশন। আসলে পর্যটকদের রসনাতৃপ্তিই নয়, ভিশুয়াল ট্রিটের ব্যবস্থাও করে দেয় এই ফ্লোটিং মার্কেট।